নিজস্ব প্রতিবেদক:
গরমের শুরু আর বর্ষার শেষে কাঁচাবাজারে কাঁকরোলের দেখা মেলে। সবুজ কাঁটাযুক্ত এই সবজিটি ভাজি বা ভর্তা হিসেবে অনেকের পাতে উঠলেও, অনেকেই—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এটি খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না।
পছন্দের তলানিতে থাকা এই সবজিটি কিন্তু পুষ্টিগুণে রীতিমতো ‘সুপারফুড’। ক্যানসার প্রতিরোধ, রক্তশূন্যতা দূর করা থেকে শুরু করে মেদ কমিয়ে তারুণ্য ধরে রাখতে কাঁকরোলের জুড়ি মেলা ভার।
ইবনে সিনা হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা সম্প্রতি কাঁকরোলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তিনি জানান, এই সবজিতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট এবং লুটেইন ও জেনান্থিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের সুরক্ষায় অপরিহার্য।
কেন খাবেন কাঁকরোল? ৮টি জাদুকরী উপকারিতা
১. ক্যানসার প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা জানান, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন থাকে, যা শরীরে ক্যানসার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ধীরগতির করে এবং কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করতে পারে।
২. ওজন ও মেদ কমাতে সহায়ক যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য কাঁকরোল একটি আদর্শ খাবার। পুষ্টিবিদ বলেন, “যদি ওজন কমাতে চান তবে খাদ্যতালিকায় যোগ করুন কাঁকরোল। এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরের অতিরিক্ত মেদ পুড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করে।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, রক্তে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কম থাকলে ‘ফ্যাট বার্নিং’ বা চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে ওজন কমে না। এছাড়া কাঁকরোল ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
৩. হৃদরোগ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তারা নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এটি শরীরের উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি ‘কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ’ বা হৃদরোগ প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
আরও পড়ুন …
৪. রক্তশূন্যতা দূর করে কাঁকরোলে প্রচুর আয়রনের পাশাপাশি ভিটামিন সি ও ফলিক অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানগুলো নতুন রক্তকোষ তৈরিতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত কাঁকরোল খেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
৫. তারুণ্য ধরে রাখে ও ত্বক উজ্জ্বল করে বয়স বাড়লেও ত্বকে তার ছাপ ফেলতে দেয় না কাঁকরোল। এটি ত্বকের কোলাজেনের গঠনকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বয়সের ছাপ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে টানটান ও সজীব রাখতে সহায়তা করে।
৬. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি কাঁকরোলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বিটা-ক্যারোটিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে। এগুলো দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি চোখের ছানি পড়া প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
৭. শরীর শীতল রাখে গরম ও বর্ষার ভ্যাপসা আবহাওয়ায় শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে কাজ করে কাঁকরোল। এতে রয়েছে প্রচুর মিনারেল বা খনিজ উপাদান, যা ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়া লবণের ঘাটতি পূরণ করে শরীরকে সতেজ রাখে।
৮. প্রোটিন ও কর্মশক্তি বৃদ্ধি সবজি হলেও প্রোটিনের অন্যতম উৎস হলো কাঁকরোল। পুষ্টিবিদের মতে, এই সবজি খেলে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া যায়, যা শরীরের কর্মশক্তি বাড়ায়। কাঁকরোল খাওয়ার পর সারাদিন কর্মচঞ্চল থাকা সহজ হয়।
উপসংহার পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকতে হলে শুধু পছন্দের খাবার নয়, বরং পুষ্টিগুণ বিচার করে খাবার খাওয়া উচিত। কাঁকরোলের মতো অবহেলিত সবজিটিই হতে পারে আপনার দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন …
- বরবটির ১০টি জাদুকরী উপকারিতা: কিডনি ও বাত রোগীদের কেন সতর্ক থাকা জরুরি?
- চিচিঙ্গা ও ঝিঙার উপকারিতা: কেন খাবেন এবং কী আছে এই দুই সবজিতে?
Discover more from কৃষি প্রতিদিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.