ওজন কমাতে ও ত্বক উজ্জ্বল করতে পুঁইশাক: তবে বিপদ হতে পারে কাদের?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাঙালির পাতে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য একটি শাক হলো পুঁইশাক। মাছের মাথা দিয়ে পুঁইশাকের চচ্চড়ি কিংবা পুঁই-চিংড়ি—নাম শুনলেই জিভে জল আসে অনেকের। স্বাদ ও সহজলভ্যতার কারণে এই শাকটি প্রায় সারা বছরই কমবেশি সবার খাদ্যতালিকায় থাকে।

কিন্তু আপনি কি জানেন, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই শাকটি সবার জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে? বিশেষ করে কিডনি রোগী ও অ্যালার্জি সমস্যা যাদের আছে, তাদের জন্য পুঁইশাক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্পেশালাইজড গ্যাস্ট্রোলিভার কেয়ারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান সম্প্রতি পুঁইশাকের পুষ্টিগুণ এবং এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে কাদের সতর্ক থাকা উচিত, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পুষ্টির ভাণ্ডার: পুঁইশাকে কী আছে? পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান জানান, গাঢ় সবুজ রঙের এই শাকে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং প্রোটিন রয়েছে। উদ্ভিদজ প্রোটিনের উৎস হিসেবে পুঁইশাক চমৎকার।

যাদের জন্য মহৌষধ: ৬টি প্রধান উপকারিতা

১. ত্বক ও চোখের যত্ন: পুঁইশাকে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি রয়েছে। এটি ত্বককে সজীব রাখতে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

২. হজম ও ক্যান্সার প্রতিরোধ: এতে থাকা প্রচুর ফাইবার বা আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পুষ্টিবিদ জানান, নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ ‘কোলন ক্যান্সার’ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: পুঁইশাকে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম। যারা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ খাবার। ফাইবার ও প্রোটিন থাকায় অল্প খেলেই পেট ভরে যায়, ফলে ক্ষুধা কম লাগে।

৪. ডায়াবেটিস রোগীদের বন্ধু: এই শাকের ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ কম। অর্থাৎ এটি খাওয়ার পর রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না, বরং ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে পুঁইশাক খেতে পারেন।

৫. উদ্ভিদজ প্রোটিনের উৎস: যারা প্রাণিজ প্রোটিন (মাছ-মাংস) কম খেতে চান বা নিরামিষভোজী, তারা প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে খাদ্যতালিকায় পুঁইশাক রাখতে পারেন।

৬. পানির ভারসাম্য: পুঁইশাকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

সতর্কতা: যাদের জন্য হতে পারে বিপদের কারণ পুঁইশাক পুষ্টিকর হলেও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় এটি এড়িয়ে চলা বা কম খাওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান এ বিষয়ে ৩টি প্রধান সতর্কবার্তা দিয়েছেন:

আরও পড়ুন …

  • কিডনি ও পাথর ঝুঁকি: পুঁইশাকে প্রচুর পরিমাণে ‘অক্সালেট’ রয়েছে, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই যারা কিডনিজনিত রোগে ভুগছেন বা যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের পুঁইশাক কম খাওয়া উচিত। এছাড়া কিডনি রোগীদের প্রোটিন গ্রহণে বিধিনিষেধ থাকায় উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ এই শাক তাদের এড়িয়ে চলাই ভালো।

  • গেঁটে বাত বা ইউরিক অ্যাসিড: যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা ‘গাউট’ (গেঁটে বাত) সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য পুঁইশাক ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে পিউরিনের মাত্রা বেশি থাকে, যা ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • অ্যালার্জি সমস্যা: অনেকের পুঁইশাকে মারাত্মক অ্যালার্জি থাকে। খাওয়ার পরপরই ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি বা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের আবার হজমজনিত অস্বস্তি হয়। পুষ্টিবিদের পরামর্শ, “অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের হজমের সমস্যা বা চুলকানি পুঁইশাকের কারণে হচ্ছে। তাই যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা আছে, তাদের সতর্ক থাকা জরুরি।”

পুঁইশাক নিঃসন্দেহে একটি সুপারফুড, তবে সবার শরীরের জন্য এটি সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এটি অমৃতসম হলেও কিডনি ও বাত রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

আরও পড়ুন …


Discover more from কৃষি প্রতিদিন

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মতামত দিন