ঢেঁড়সের ১০টি জাদুকরী উপকারিতা: কেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন অনেক সহজলভ্য সবজি থাকে, যার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। তেমনই একটি পরিচিত সবজি হলো ঢেঁড়স।

বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে চাষ হওয়া এই সবজিটি কেবল ভাজি বা তরকারি হিসেবেই সুস্বাদু নয়, বরং এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং হাড়ের ক্ষয়রোধে ওষুধের মতো কাজ করে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢেঁড়সের জুড়ি মেলা ভার।

ইবনে সিনা স্পেশালাইজড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ও ডায়াবেটিস এডুকেটর জান্নাতুন নেসা সম্প্রতি ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

তিনি জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে মাত্র ৩৩ ক্যালরি শক্তি থাকলেও এটি প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলসে ভরপুর।

প্রোটিন ও আঁশের ভাণ্ডার- জান্নাতুন নেসা বলেন, “শাক-সবজির মধ্যে যেসব খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, ঢেঁড়স তাদের মধ্যে অন্যতম। এটি শরীরের পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং ক্ষয়প্রাপ্ত কোষ পুনর্গঠন করে।”

প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে ২ গ্রাম প্রোটিন এবং ৩.২ গ্রাম ফাইবার বা আঁশ থাকে। এই আঁশ পরিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমের সমস্যা কমায়। পুষ্টিবিদ আরও জানান, “আঁশ সমৃদ্ধ খাবার যেমন ঢেঁড়স রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমায়।”

গর্ভবতী মা ও শিশুর সুরক্ষায়- গর্ভবতী নারীদের জন্য ঢেঁড়স অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফোলেট (ভিটামিন বি৯)। এটি গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশে সহায়তা করে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় নারীদের নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

রোগ প্রতিরোধ ও চোখের যত্ন- ঢেঁড়স ভিটামিন সি-এর একটি চমৎকার উৎস। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন এ চোখের রেটিনাকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।

হাড়ের সুরক্ষা ও রক্তস্বল্পতা রোধ- ঢেঁড়সে বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম হাড়ের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। পুষ্টিবিদ জান্নাতুন নেসা বলেন, “ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে হাড় মজবুত হয়।” এছাড়া এতে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এবং অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চ রক্তচাপ- যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য ঢেঁড়স একটি আদর্শ খাবার। ক্যালরি কম এবং পুষ্টি বেশি হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা- ঢেঁড়সে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানগুলো শরীর থেকে ক্ষতিকারক ‘ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল’ অপসারণ করে, যা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।

রান্না ও সতর্কতা

পুষ্টিবিদদের মতে, ঢেঁড়স ভর্তা, ভাজি বা ঝোলের তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়। তবে এর পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে হলে অল্প তেল ও অল্প মসলায় রান্না করা উচিত। অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে এর ভিটামিন নষ্ট হতে পারে।

জান্নাতুন নেসা সতর্ক করে বলেন, “ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে ঢেঁড়স অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হলেও, যাদের অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা আছে, তাদের নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

আরও পড়ুন …


Discover more from কৃষি প্রতিদিন

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মতামত দিন