নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
ফুলকপি বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধবধবে সাদা রঙের সবজি। কিন্তু সেই চিরায়ত ধারণা বদলে দিয়ে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে এখন শোভা পাচ্ছে হলুদ, বেগুনি, কমলা আর হালকা সবুজ রঙের ফুলকপি। সাদা ফুলকপির ভিড়ে এই রঙিন সবজি যেন ক্রেতাদের চোখের আরাম। দাম সাদা ফুলকপির চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি হলেও শৌখিন ক্রেতারা তা কিনতে কার্পণ্য করছেন না।
নগরের কাজীর দেউড়ি ও চেরাগি পাহাড় মোড় ঘুরে দেখা গেছে, সবজির পসরায় রঙিন ফুলকপি এক নতুন আকর্ষণের নাম। অনেকে কৌতূহলবশত ছবি তুলছেন, কেউবা ভিডিও করছেন, আবার কেউ শখ করে কিনছেন বাড়ির জন্য।
দামের বিস্তর তফাত বর্তমানে বাজারে ভালো মানের তাজা সাদা ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। সেখানে রঙিন ফুলকপির দাম আকাশছোঁয়া।
- হলুদ ও বেগুনি: প্রতি কেজি ১২০ টাকা।
- কমলা ও হালকা সবুজ: প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। অর্থাৎ, একটি রঙিন ফুলকপি কিনতে ক্রেতাকে সাদা ফুলকপির চেয়ে ৪ গুণ বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।
বিক্রেতারা যা বলছেন কাজীর দেউড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা জয়নাল আবেদিন জানান, গত চার দিন ধরে সীতাকুণ্ড ও দোহাজারী থেকে এসব রঙিন ফুলকপি বাজারে আসছে। তিনি বলেন, “আগে এগুলো সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন হতো এবং মূলত উপহার হিসেবে ভিআইপিদের কাছে যেত। দুই-তিন বছর ধরে চাষ হলেও এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ভালো পরিমাণে বাজারে আসছে। বীজ ও পরিচর্যার খরচ বেশি হওয়ায় এর দামও একটু চড়া।”
অন্যদিকে চেরাগি পাহাড় মোড়ের বিক্রেতা মো. কালাম বলেন, “হাজার হাজার ফুলকপির মধ্যে প্রতিদিন মাত্র ৫০-৬০টি রঙিন কপি আসে। পাইকারিতেই আমাদের কিনতে হয় ৯০ টাকা দরে। তাই চাহিদা বাড়লেও জোগান কম।”
একনজরে রঙিন ফুলকপির বাজার
- প্রাপ্তিস্থান: কাজীর দেউড়ি, চেরাগি পাহাড় (চট্টগ্রাম)।
- উৎস: সীতাকুণ্ড ও দোহাজারী।
- রং: হলুদ, বেগুনি, কমলা, হালকা সবুজ।
- সাদা ফুলকপির দাম: ২৫-৩০ টাকা/কেজি।
- রঙিন ফুলকপির দাম: ১০০-১৪০ টাকা/কেজি।
ক্রেতাদের আগ্রহ কেন? দাম বেশি হলেও ক্রেতারা কেন কিনছেন? এর উত্তর মিলল আলমগীর হোসেন নামের এক ক্রেতার কথায়। তিনি ২৪০ টাকা দিয়ে দুই কেজি ওজনের একটি বেগুনি ফুলকপি কিনেছেন। তিনি বলেন, “বাসার বাচ্চারা সবজি খেতেই চায় না। তবে লালশাক বা রঙিন খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহ থাকে। মিডিয়াতে রঙিন ফুলকপি দেখেছি, আজ চোখের সামনে পেয়ে কিনে নিলাম। আশা করি বাচ্চারা এটি পছন্দ করবে।”
কৃষি বিভাগের ভাষ্য সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ২০২৩ সাল থেকে সীতাকুণ্ডে রঙিন ফুলকপির চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকরা এখন এতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তিনি বলেন, “বাজারে সাধারণ সবজির দাম কম থাকলেও রঙিন ফুলকপি ৩-৪ গুণ বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন চাষিরা। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ভোক্তারাও নতুন এই সবজি পেয়ে খুশি।”
দেখতে সুন্দর এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই রঙিন ফুলকপি আগামীতে আরও সহজলভ্য হবে এবং কৃষকদের ভাগ্য বদলে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Discover more from কৃষি প্রতিদিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.