শীতে তরকারির স্বাদ বাড়াতে রান্নাঘরেই চাষ করুন লেটুস-ধনেপাতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

শীতের সকাল হোক বা বিকেল, স্যান্ডউইচ কিংবা বার্গারের সঙ্গে এক টুকরো তাজা লেটুস পাতার মেলবন্ধন খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। স্বাস্থ্যসচেতনদের সালাদের বাটিতেও লেটুসের জুড়ি মেলা ভার। অন্যদিকে, শীতের দুপুরে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, মাছের ঝোল কিংবা সবজিতে একটু ধনেপাতা না হলে বাঙালির যেন চলেই না। রান্নায় এক চিমটি ধনেপাতা খাবারে নিয়ে আসে দারুণ ঘ্রাণ ও স্বাদ।

তবে প্রয়োজনের সময় সবসময় হাতের কাছে বাজার থেকে কেনা টাটকা লেটুস বা ধনেপাতা পাওয়া যায় না। আবার একসঙ্গে অনেকগুলো কিনে আনলে পচে যাওয়ার ভয় থাকে। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে আপনার রান্নাঘরই। খুব বেশি জায়গা বা ঝামেলা ছাড়াই শীতে রান্নাঘরের এক কোণে বা জানলার তাকেই চাষ করতে পারেন এই দুটি প্রয়োজনীয় পাতা।

কেন চাষ করবেন রান্নাঘরে? রান্নাঘরে চাষ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—প্রয়োজন মাফিক একদম ফ্রেশ পাতা তুলে সরাসরি খাবারে ব্যবহার করা যায়। এতে যেমন খাবারের স্বাদ ও গুণাগুণ অটুট থাকে, তেমনি বাঁচে বাজারের খরচ। এছাড়া নিজের হাতে ফলানো গাছের পরিচর্যায় মানসিক প্রশান্তিও মেলে।

রোদের চিন্তা নেই অনেকেই ভাবেন বাগান করতে বুঝি কড়া রোদের প্রয়োজন। কিন্তু লেটুস ও ধনেপাতা চাষে এই ধারণা ভুল।

  • লেটুস: লেটুস চাষের জন্য প্রখর রোদের প্রয়োজন হয় না। বরং অতিরিক্ত রোদে লেটুস পাতা তিতকুটে হয়ে যেতে পারে। রান্নাঘরের যে স্থানে আলো আসে কিন্তু সরাসরি কড়া রোদ পড়ে না, এমন স্থানই লেটুসের জন্য আদর্শ।

  • ধনেপাতা: ধনেপাতার জন্যও হালকা রোদ বা আংশিক ছায়া উপযুক্ত। তাই জানালার পাশে বা বারান্দার এক কোণে সহজেই এর টব রাখা যায়।

পাত্র বা টব নির্বাচন লেটুস বা ধনেপাতা চাষের জন্য খুব বড় জায়গার প্রয়োজন নেই।

  • ছোট টব: রান্নাঘরে জায়গার স্বল্পতা থাকলে ছোট টব বা প্লাস্টিকের বোতল কেটেও গাছ লাগানো সম্ভব।

  • বড় টব: যদি রান্নাঘরে জায়গা থাকে, তবে একটু বড় ও চওড়া টব ব্যবহার করলে ফলন বেশি হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পাত্রের নিচে পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকে।

মাটি ও সার প্রস্তুতি গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকর পাতার জন্য মাটির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

  • দোআঁশ মাটি: লেটুস ও ধনেপাতার জন্য দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।

  • সার: মাটির সঙ্গে পরিমাণমতো কম্পোস্ট সার বা গোবর সার মিশিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এতে মাটি উর্বর থাকে এবং পানি ধারণক্ষমতা ঠিক থাকে।

পরিচর্যা ও সেচ ১. পানি: ভেজা মাটি লেটুস ও ধনেপাতার জন্য খুব ভালো। তাই নিয়মিত পানি দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে। গোড়ায় পানি জমলে শিকড় পচে গাছ মারা যেতে পারে। ২. আর্দ্রতা: মাটি যেন একদম শুকিয়ে খটখটে না হয়ে যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আঙুল দিয়ে মাটি ছুঁয়ে যদি শুকনা মনে হয়, তবেই পানি দিন।

ফসল সংগ্রহ রান্নাঘরের বাগানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখান থেকে ‘কাট অ্যান্ড কাম এগেইন’ পদ্ধতিতে ফসল তোলা যায়। অর্থাৎ, ধনেপাতা বা লেটুস গাছটি সমূলে না তুলে, শুধু বাইরের দিকের বড় পাতাগুলো কেটে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভেতরের ছোট পাতাগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ফলন পাওয়া যায়।

শীতের এই মৌসুমে সামান্য একটু যত্ন নিলেই আপনার প্রতিদিনের খাবারে যোগ হতে পারে বিষমুক্ত, টাটকা ও পুষ্টিসমৃদ্ধ লেটুস ও ধনেপাতা।


Discover more from কৃষি প্রতিদিন

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মতামত দিন