আন্তর্জাতিক ডেস্ক/ এজি-টেক বিভাগ:
গত এক দশকে স্মার্ট কৃষির মূল মন্ত্র ছিল—‘যত পারো ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ করো’। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই ধারণাটি আমূল বদলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল তথ্য জমা করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই তথ্যকে কীভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজে লাগানো যায়, সেটাই হবে আগামী দিনের কৃষির মূল চ্যালেঞ্জ।
কৃষি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগওয়ার্ল্ড’-এর হেড অব মার্কেটিং রেইন্ডার প্রিন্স সম্প্রতি এক নিবন্ধে এই পরিবর্তনের দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তার মতে, কৃষকদের এখন ‘ডিজিটাল ফাইল ক্যাবিনেট’-এর চেয়ে ‘ডিসিশন ইঞ্জিন’ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বেশি জোর দিতে হবে।
তথ্য যখন ‘বোঝা’ নয়, ‘শক্তি’: রেইন্ডার প্রিন্স নিউজিল্যান্ডের একজন কৃষকের উদাহরণ টেনে বলেন, বর্তমান চাষিরা তথ্যের স্তূপ জমা করতে চান না। তারা চান সেই নির্দিষ্ট তথ্য, যা তাদের লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে সাহায্য করবে।
প্রিন্স বলেন, “অনেক চাষিই এখন অনুভব করছেন যে, ডিজিটাল ফাইল ক্যাবিনেটে তথ্য জমা করে রাখার চেয়ে ‘ডিসিশন ইঞ্জিনে’ তথ্য যুক্ত করা বেশি জরুরি। সব ডেটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে ভেবে জমিয়ে না রেখে, সেই ডেটার ওপর জোর দিতে হবে যা সত্যিকার অর্থেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।”
মূলত, কৃষি উপকরণগুলো কখন, কোথায় এবং কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে—তা নির্ধারণ করাই হলো ডেটার আসল কাজ। যত বেশি স্তরের ডেটা একত্রিত করা যাবে, তত জোরালো অন্তর্দৃষ্টি বা ‘ইনসাইট’ পাওয়া যাবে।
জাদুকরী সমাধান নয়, প্রয়োজন বাস্তবতা: অনেকে মনে করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কৃষির সব সমস্যার ‘জাদুকরী সমাধান’ বা সিলভার বুলেট হিসেবে কাজ করবে। তবে রেইন্ডার প্রিন্স এই ভুল ধারণা ভাঙিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আপনি যদি এমন কোনো জাদুকরী এআই চ্যাটবটের অপেক্ষায় থাকেন যা আপনাকে ঠিক ঠিক বলে দেবে কী করতে হবে, তবে আপনাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।”
২০২৫ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, কোনো একক সমাধান নেই। তবে মাঠ-পর্যায়ের তথ্য যদি কাঠামোগতভাবে সংগ্রহ করা যায় এবং তা ‘জিও-রেফারেন্সড’ বা স্থান-ভিত্তিক হয়, তবে তা ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন …
- প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা
- এআই ও ড্রোন ব্যবহারে আমবাগানে বিপ্লব: উৎপাদন বেড়েছে ৭ গুণ
ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এআই: রাসায়নিকের সঠিক প্রয়োগ: ২০২৬ সালে এআই কীভাবে কাজ করবে, তার একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, বাজারে হাজার হাজার কৃষি পণ্য ও রাসায়নিক রয়েছে। একজন কৃষক বা কৃষিবিদের পক্ষে সব পণ্যের লেবেল বা নির্দেশনা মনে রাখা অসম্ভব।
এখানেই এআই-এর ভূমিকা। প্রিন্স বলেন, “কল্পনা করুন, কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে চাষিরা এআই-চালিত নোটিফিকেশন পাচ্ছেন। যেখানে পণ্যের লেবেল থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—যা তাদের অবস্থান, সময় এবং ফসলের পর্যায় অনুযায়ী তৈরি। এটি ভুল প্রয়োগ কমাবে এবং খরচ বাঁচাবে।”
২০২৬ সালের পূর্বাভাস: ‘এআই-রেডি’ ডেটা: আগামী দিনে কৃষকদের ডেটা সংগ্রহের গুরুত্ব কমবে না, তবে ধরন পাল্টাবে। প্রিন্সের মতে, এখন নজর থাকবে সংগৃহীত ডেটা যেন কাঠামোগত এবং ‘এআই-রেডি’ (AI-ready) হয়। প্রযুক্তি প্রদানকারীরা আরও ‘বাস্তবসম্মত’ (Common Sense) এআই টুল নিয়ে আসবে, যা এখনই কাজে দেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, “এআই হয়তো এখনই আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই আমাদের আরও ভালো ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। ৫ বা ১০ বছরের বৈপ্লবিক স্বপ্নের বদলে, দৈনন্দিন প্রক্রিয়ায় এআই যুক্ত হতে শুরু করবে।”
আরও পড়ুন …
- ২০২৬ সালের কৃষি প্রযুক্তি ট্রেন্ড: উৎপাদন বাড়াতে আসছে যেসব পরিবর্তন
- কৃষিতে নতুন দিগন্ত: ড্রোন প্রযুক্তিতে মাত্র ৫ মিনিটেই কীটনাশক স্প্রে, সাশ্রয় হচ্ছে সময় ও অর্থ
- এআই চালিত কৃষি: আগামীর বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের দিগন্ত
Discover more from কৃষি প্রতিদিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.