ফিচার ডেস্ক:
জমির নামজারি বা মিউটেশন করতে এখন আর ভূমি অফিসে দিনের পর দিন ঘোরার প্রয়োজন নেই। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় চালু করেছে ই-নামজারি সিস্টেম। এখন ঘরে বসেই স্বল্প খরচে, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং মাত্র ২৮ দিনেই সম্পন্ন করা যাচ্ছে জমির মালিকানা পরিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি।
ডিজিটাল ল্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার (DLCC)-এর সহযোগিতায় ই-নামজারি করার পুরো প্রক্রিয়া, খরচ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিস্তারিত গাইডলাইন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
নামজারি বা মিউটেশন কী?
ক্রয়, ওয়ারিশ, হেবা, ডিক্রি বা অন্য কোনো উপায়ে জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করাই হলো নামজারি। এর মাধ্যমে পুরনো মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নামে সরকার নতুন খতিয়ান (Record of Rights) তৈরি করে। জমির মালিকানা প্রমাণে এটি অপরিহার্য।
অনলাইনে ই-নামজারি করার ধাপসমূহ
১. ওয়েবসাইট ও আবেদন শুরু প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট https://mutation.land.gov.bd-এ প্রবেশ করে ‘আবেদন করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এনআইডি (NID) যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক।
২. মালিকানার উৎস নির্বাচন আপনি জমিটি কীভাবে পেয়েছেন, তা নির্বাচন করতে হবে। অপশনগুলোর মধ্যে রয়েছে— ক্রয়কৃত (Sale Deed), ওয়ারিশ, হেবা, রায়/ডিক্রি, বিনিময় বা দান।
৩. জমির সঠিক অবস্থান ও তথ্য বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা নির্বাচন করতে হবে। সবসময় সর্বশেষ জরিপ (BS/BRS) অনুযায়ী তথ্য দেওয়া উচিত। এরপর সঠিক খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি এবং পরিমাপ (শতাংশ/একর) সতর্কতার সঙ্গে টাইপ করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
৪. ব্যক্তিগত তথ্য আবেদনকারীর নাম, মোবাইল নম্বর, এনআইডি/জন্মসনদ নম্বর এবং বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। কোনো প্রতিনিধি থাকলে তার তথ্যও যুক্ত করতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড সব কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। প্রতিটি ফাইলের সাইজ সর্বোচ্চ ১.২৫ মেগাবাইট (MB) এবং সব মিলিয়ে ২৫ মেগাবাইটের বেশি হওয়া যাবে না। যা যা লাগবে:
- মূল দলিল (Sale Deed)
- খতিয়ানের কপি (CS/SA/RS/BS)
- দাগ নম্বর অনুযায়ী ম্যাপ (হাত নকশা)
- ওয়ারিশ সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- আবেদনকারীর ছবি ও এনআইডি কপি
- আদালতের রায়/ডিক্রি (যদি থাকে)
৬. ফি ও পেমেন্ট আবেদন সাবমিট করার পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যাবে। এরপর আবেদন ও নোটিশ ফি বাবদ ৭০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় বা ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে এই ফি দেওয়া যায়।
অনলাইন শুনানি ও নিষ্পত্তি
আবেদন করার পর ভূমি অফিস থেকে শুনানির তারিখ জানানো হবে। এখন অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে (গুগল মিট/জুম) শুনানির সুযোগ রয়েছে। http://oh.lams.gov.bd লিংকে গিয়ে আবেদনের অবস্থা ও শুনানির তারিখ দেখা যাবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করবেন। অনুমোদন পেলে মোবাইলে এসএমএস আসবে।
খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ
অনুমোদনের পর ডিসিআর (DCR) ফি বাবদ ১,১০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ওয়েবসাইট থেকেই কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত খতিয়ান ও ডিসিআর প্রিন্ট করা যাবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনলাইন ডিসিআর সম্পূর্ণ আইনগতভাবে বৈধ। এটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ব্যাংক বা যেকোনো দাপ্তরিক কাজে ১০০% গ্রহণযোগ্য। ম্যানুয়াল কপি সংগ্রহের আর প্রয়োজন নেই।
পরামর্শ ও সতর্কতা
ডিজিটাল ল্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার (DLCC) এর বিশেষজ্ঞরা জানান, আবেদনে তথ্য ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকে না, সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। তাই প্রিভিউ অপশনে গিয়ে তথ্যগুলো বারবার যাচাই করে নেওয়া উচিত। জটিলতা এড়াতে অভিজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
Discover more from কৃষি প্রতিদিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.