রাজশাহী প্রতিনিধি:
মাঘের শুরুতে শীতের তীব্রতা খুব একটা না থাকলেও রাজশাহীর প্রকৃতিতে বইছে ফাগুনের আগাম হাওয়া। এরই মধ্যে ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ খ্যাত রাজশাহীর আম গাছগুলোতে উঁকি দিতে শুরু করেছে আগাম মুকুল। যদিও পুরোপুরি মুকুল বা মৌল আসতে আরও মাস দুয়েক সময় বাকি, তবুও বসে নেই আমচাষিরা। আগাম মুকুলের সুরক্ষায় এবং আসন্ন মৌসুমের প্রস্তুতিতে এখন বাগানগুলোতে চলছে পরিচর্যার ধুম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন চিত্র ও কৃষকের ব্যস্ততা রাজশাহীর পবা, চারঘাট ও বাঘাসহ বিভিন্ন উপজেলার আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে কর্মব্যস্ততার চিত্র। কুয়াশার কারণে মুকুলে যাতে ছত্রাকের আক্রমণ না হয়, সেজন্য চাষিরা গাছে গাছে বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন। কেউ কেউ গাছের গোড়া খুঁড়ে পানি সেচ দিচ্ছেন।
পবা উপজেলার আমচাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, “এ বছর গাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। গত বছরের চেয়ে এবার শীত ও কুয়াশার তীব্রতা অনেক কম, যা আমের জন্য আশীর্বাদ। আমরা এখন গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছি এবং স্প্রে করছি। আশা করছি এবার ভালো ফলন পাব।”
চারঘাট এলাকার চাষি মাহতাব আলী বলেন, “সারা বছর গাছের যত্ন নিলে প্রতি বছরই ফলন পাওয়া যায়। আমার বাগানের দুই-একটি গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। তবে এই সময়ে ‘হপার’ বা শোষক পোকার আক্রমণ হলে ফলন কমে যেতে পারে। তাই সঠিক সময়ে পোকা দমনে আমরা সতর্ক আছি।”
পরিসংখ্যান ও লক্ষ্যমাত্রা রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় আমের আবাদ ও উৎপাদনের চিত্র নিম্নরূপ:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছর: আবাদ হয়েছিল ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ মেট্রিক টন।
- ২০২৫-২৬ লক্ষ্যমাত্রা: আবাদি জমি অপরিবর্তিত রেখে (১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন।
- ফলন হার: গত বছর হেক্টর প্রতি ফলন ছিল প্রায় ১২.৫ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে তা বাড়িয়ে হেক্টর প্রতি ১২.৮ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বাগানগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত মুকুল আসেনি। মূলত ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে পরিপূর্ণ মুকুল আসবে। তবে এখন থেকেই গাছের সঠিক যত্ন নিলে এবং রোগবালাই দমন করলে ভালো মুকুল পাওয়া যাবে। গতবারের তুলনায় এবার আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আমের অনুকূলে রয়েছে।”
কৃষি বিভাগের প্রস্তুতি রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, “ভালো ফলন পেতে হলে একটি আম গাছে বছরে অন্তত দুইবার কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। মাঠপর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সেই পরামর্শই দিচ্ছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা পেলে এবার হেক্টর প্রতি আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
Discover more from কৃষি প্রতিদিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.