কৃষির কীটনাশক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের জন্য বড় হুমকি: উপদেষ্টা ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক এখন শুধু ফসলের মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

তিনি বলেন, “কীটনাশকের বিষয়টি কেবল কৃষি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ নীতিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”

সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের মৌলিক নীতিমালা: বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে এগ্রো ইকোলজি কোয়ালিশন বাংলাদেশ, পিকেএসএফ, ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও এফআইভিডিবি।

নীতিমালায় পরিবর্তনের ডাক

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, খাদ্য উৎপাদনের খাত হিসেবে নীতিগতভাবে কৃষির (ফসল) তুলনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি।

কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার এই খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, তাই এ বিষয়ে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

হাওর রক্ষা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পর্যটন

প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, “মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

বাওরগুলোকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা গেলেও হাওর এলাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এর মূল কারণ দায়িত্বজ্ঞানহীন পর্যটন। পর্যটকরা হাওরের পরিবেশ নষ্ট করছেন, যা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই পর্যটন নীতিতেও এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।”

জলবায়ু ঝুঁকি ও বরেন্দ্র অঞ্চল

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৎস্য খাতের ক্ষতির দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মাছ মরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ সংকট উত্তরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যান্যদের বক্তব্য

পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি শি জিয়াওকুন এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এগ্রো ইকোলজি কোয়ালিশনের আহ্বায়ক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। মূল গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চের গবেষণা পরিচালক আহমেদ বোরহান। সঞ্চালনা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা।

এ সময় সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।


Discover more from কৃষি প্রতিদিন

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মতামত দিন