বারোমাসি লাউয়ের নতুন জাত ‘বারি-৪’ উদ্ভাবন: সারা বছর মিলবে ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

লাউ সাধারণত শীতকালীন সবজি হিসেবেই বেশি পরিচিত। তবে এবার সেই ধারণা বদলে দিতে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন লাউয়ের এক নতুন জাত। ‘বারি লাউ-৪’ নামের এই জাতটি বছরের বারো মাসই চাষ করা যাবে। উচ্চ ফলনশীল ও তাপ সহনশীল এই জাতটি চাষে কম খরচে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

নতুন জাতের বিশেষত্ব

বিজ্ঞানীরা জানান, ‘বারি লাউ-৪’ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাপ সহনশীল। ফলে গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত—বছরের যেকোনো ঋতুতেই এর চাষাবাদ সম্ভব। দেশের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে সমতলের সব এলাকাতেই এই লাউ চাষ করা যাবে।

  • ফলন: সাধারণ জাতের তুলনায় এর ফলন অনেক বেশি। প্রতি হেক্টরে ৮০ থেকে ৮৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে।
  • সময়: চারা রোপণের মাত্র ৭০-৮০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। যেখানে অন্যান্য জাতে সময় লাগে প্রায় ৯০ দিন।
  • ফলের আকার: গাঢ় সবুজ রঙের ফলের গায়ে সাদাটে দাগ থাকে। প্রতিটি ফলের গড় ওজন ২.৫ কেজি। লম্বায় ৪২-৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১২-১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়।

কৃষকের মুখে হাসি

নতুন এই জাত নিয়ে আশাবাদী স্থানীয় কৃষকরা। রাইখালী ইউনিয়নের কৃষক পাইদো অং মারমা বলেন, “গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে আমি গবেষণা কেন্দ্র থেকে বারি লাউ-৪-এর বীজ সংগ্রহ করি। তারা আমাকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষ করেছি, বর্তমানে গাছগুলো বেশ বড় হয়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ফলন তুলতে পারব। এটি বারোমাসি হওয়ায় আমরা বেশ লাভবান হবো।”

একনজরে ‘বারি লাউ-৪’

  • জাতের নাম: বারি লাউ-৪
  • বৈশিষ্ট্য: তাপ সহনশীল ও বারোমাসি
  • ফলন সময়: রোপণের ৭০-৮০ দিন পর
  • হেক্টর প্রতি ফলন: ৮০-৮৫ টন
  • প্রতি ফলের ওজন: ২.৫ কেজি (গড়)
  • গাছ প্রতি ফল: ১০-১২টি

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য

রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান গনমাধ্যমকে বলেন, “বারি লাউ-৪ জাতটি আমাদের একটি বড় সাফল্য। এটি বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। গ্রীষ্মকালে ফাল্গুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে এটি আবাদ করা যায়। চৈত্র মাসে বীজ বপন করে বৈশাখ মাসে চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতিটি গাছে ১০-১২টি ফল ধরে এবং এর জীবনকাল ১৩০-১৫০ দিন।”

গবেষণা কেন্দ্রের সাফল্য

১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রটি পাহাড়ি কৃষির উন্নয়নে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আসছে। এখন পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানটি ২১টি বিভিন্ন সবজি ও ফলের উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


Discover more from কৃষি প্রতিদিন

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মতামত দিন