দেশে পরীক্ষামূলক গোলমরিচ চাষ: আমদানিনির্ভরতা কমানোর নতুন স্বপ্ন

ফেনী প্রতিনিধি:

পানের লতার মতো দেখতে, কিন্তু পান নয়। গাঢ় সবুজ রঙের লতাটি দামী মশলা গোলমরিচের গাছ। ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে এই গোলমরিচ চাষ।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ফেনীসহ আশপাশের অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে গোলমরিচ চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, যা দেশের মশলা আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখবে।

সরেজমিন চিত্র

ফেনীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। বাগানের এক কোণে প্লাস্টিকের নেটের সঙ্গে পেঁচিয়ে ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে সারি সারি লতা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় পানের বরজ। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়, এটি ভিন্ন কিছু। হর্টিকালচার সেন্টারের এই নতুন সংযোজন দেখতে এখন ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা।

উদ্যোগ ও বর্তমান অবস্থা

হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে সেন্টারে ৬টি গোলমরিচের মাতৃগাছ (Mother Plant) রোপণ করা হয়। নিবিড় পরিচর্যায় গাছগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে।

ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ নয়ন মনি সূত্র ধর বলেন, “গোলমরিচ একটি উচ্চমূল্যের মশলাজাতীয় ফসল। উপযুক্ত রোদ, বাতাস এবং উর্বর মাটি পেলে এ গাছ দ্রুত বাড়ে। আমাদের রোপণ করা ৬টি গাছে আগামী ফাল্গুন মাসে ফুল আসবে এবং পর্যায়ক্রমে তা মরিচে পরিণত হবে বলে আশা করছি।”

চাষ পদ্ধতি ও সুবিধা

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গোলমরিচ একটি লতাজাতীয় ও পরগাছা উদ্ভিদ। এটি একা বাড়তে পারে না, অন্য গাছের আশ্রয়ের প্রয়োজন হয়। আম, সুপারি, কাঁঠাল, নারিকেল, মান্দার বা জিগা গাছের মতো খসখসে ছালযুক্ত গাছে এটি ভালো জন্মে।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও জয়নাল আবেদীন জানান, ফেনীতে প্রথমবারের মতো এই প্রদর্শনী করা হয়েছে। এই অঞ্চলের মাটি গোলমরিচ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এটি চাষে খরচ খুবই কম। বাড়ির আঙিনায় থাকা বড় গাছের সঙ্গে বা সেড তৈরি করে সহজেই এই মশলা চাষ করা সম্ভব।

গোলমরিচ চাষে জরুরি টিপস

মাটি: দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি।

রোপণের সময়: জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় (বর্ষার শুরু)।

সার প্রয়োগ: জৈব সার বেশি প্রয়োজন।

আশ্রয় গাছ: সুপারি ও নারিকেল গাছ সবচেয়ে ভালো।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পরীক্ষামূলক এই চাষ সফল হলে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে গোলমরিচের চারা উৎপাদন করা হবে। কৃষিবিদ নয়ন মনি সূত্র ধর জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তাদের এই লাভজনক চাষে উদ্বুদ্ধ করা। দেশে গোলমরিচের উৎপাদন বাড়লে বিদেশ থেকে মশলা আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

বাংলাদেশে রান্না ও ভেষজ ওষুধ তৈরিতে গোলমরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে চাহিদার বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফেনীর এই উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র- বাসস


Discover more from কৃষি প্রতিদিন

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মতামত দিন